দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা ছয় দিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে ঝালকাঠির বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের বীজতলার বড় অংশ পানির নিচে চলে গেছে। এতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জেলার নিচু এলাকা, নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কে পানি জমে রয়েছে। জোয়ারের কারণে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে অনেক এলাকায় ফসলি জমিতে প্রবেশ করেছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা এবং ৪৬ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে, যার অধিকাংশই বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।
পিংড়ি এলাকার কৃষক লিটন হোসেন, আলমগীর হাওলাদার ও শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের বীজতলা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি আমনের চারা রোপণে বিলম্ব ঘটিয়ে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে জেলায় বর্তমানে ৯ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমির আউশ ধান পরিপক্ব অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও টানা বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আউশ ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
এ ছাড়া বর্তমানে জেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে হলুদ, ১৯ হেক্টর জমিতে মরিচ এবং ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিলে এসব ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৬ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। কোনো কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু আমনের বীজতলাই নয়, জেলার সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যশস্যের সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জে আই